
দিনাজপুরের বিরলে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত এবং সচেতন নাগরিক সোসাইটির আয়োজনে ১৫ দিন ব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে।
১৫ মে রবিবার সকালে বিরল পৌর শহরের হাঁড়িপুকুরে “জীবন বাঁচাতে সাঁতার” শীর্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফছানা কাওসার।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের “জীবন বাঁচাতে সাঁতার প্রশিক্ষন” কর্মসুচি পরিচালক সাকাওয়াৎ হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুরজিত কুমার বাবুল এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ ফখরুল ইসলাম, সচেতন নাগরিক সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক শামীম আজাদ চৌধুরী, সচেতন নাগরিক সোসাইটির পরিচালক মোহাইমিনুল ইসলাম, বিরল সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনজুরুল হাসান দুলু, বিরল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহি উদ্দীন, বিরল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোকলেসুর রহমান ভুট্রু, বিরল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক একরামুল হক, বিরল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুল করিম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে কর্মসুচির পরিচালক মো. সাকাওয়াৎ হোসেন তালুকদার বলেন, পুকুর-দীঘি, খাল-নদী-হাওয়র বিলের পানিতে মনের আনন্দে নেমে এমনকি গোসল করতে গিয়ে ডুবে মারা যাচ্ছে অনেক শিশু-কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী, তরুন-তরুনী ও বয়জ্যেষ্ঠ মানুষ। এর প্রধান কারনটি হলো সাঁতার না জানা। আগের প্রজন্মের মানুষের সাঁতারের শখ আর অভ্যাস দুটোই ছিল। কিন্তু নতুন প্রজন্মের কাছে তা বলতে গেলে অজানা ও ভয়ের বিষয়ই রয়ে গেছে। এতে করে বেঘোরে অনেকেরই মৃত্যু ঘটে পানিতে ডুবে গিয়ে। ইউনিসেফ এর এক জরিপ অনুযায়ী বছরে বাংলাদেশে সাঁতার না জানার কারণে ১৭ হাজার মানুষ মারা যায়। আর পানিতে ডুবে যে মারা যায় এটা শুধু সাগর, নদীতেই না পুকুর, ডোবা, খাল-বিলেও মারা যায়। পানি বেশি হলেই যে মারা যায় তা না। আতঙ্কের কারনেও মারা যায়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে সরকার পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্যে স্কুল ও কলেজের সব শিক্ষার্থীদের সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় এ কর্মসুচি গ্রহন করেছে। জনবলের অভাবের কারনে সচেতন নাগরিক সোসাইটি নামের এ এনজিও’র মাধ্যমে এ কর্মসুচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে দেশের ৭ টি উপজেলায় এ কর্মসুচি চলছে। এ ৭ টি উপজেলায় সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলায় এ কর্মসুচি বাস্তবায়ন করবে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় কোয়ার্টারে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৪০ শিক্ষার্থীকে হাতে নাতে সাঁতার শেখানো হবে।